১০:৫০ এএম | টাঙ্গাইল, সোমবার, ২০ মে ২০১৯
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া

বিদ্যালয়ের উন্নয়নের টাকা হরিলুটের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার | টাঙ্গাইল২৪.কম | বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ | |
, টাঙ্গাইল :

বিদ্যালয়ের উন্নয়নের বরাদ্দ টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে এলজিইডি’র সাবেক কর্মকতা ও বর্তমানে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিক সাহাসহ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য আসা বরাদ্দকৃত ৪৮ লক্ষ টাকা নিয়ে এ অভিযোগ উঠে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পিইডিপি-৩ এর আওতায় উপজেলার ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য বিদ্যালয় প্রতি দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ আসে। বিদ্যালয়গুলোর জন্য উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার ও গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে বিশেষ কায়দায় এ বরাদ্দ আনেন। 

ফলে ওই দুই চেয়ারম্যান উপজেলা এলজিইডির সাবেক কর্মকর্তা অনিক সাহা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীনকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে কাজ না করেই টাকাগুলো উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের উন্নয়ন ও সংস্কার প্রত্যয়নের জন্য এলজিইডি কর্মকর্তা ও চেক বাগিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে বিদ্যালয় গুলো পরিদর্শন করে উন্নয়নের কোন চিত্র চোখে পড়েনি। উপজেলার নিকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে দুইটি দরজা ছাড়া কিছুই দেখা যায়নি। চিতুলিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকার মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ হলেও সেখানে একতোলা মাটিও সেখানে পড়েনি। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবী গাবসারার চেয়ারম্যান তাকে মাত্র ৭০হাজার টাকা দিয়েছেন সেটাও আবার ব্যাংকের একাউন্টে রাখা হয়েছে।  

জানা যায়, গত বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিদ্যালয় সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের বিল-ভাউচার জমা দিতে লিখিত নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন। এছাড়া বিল-ভাউচারের সাথে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃক একটা প্রত্যয়নপত্র সংযুক্তিরও নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের কোন কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে টাকা উত্তোলণ করেন। তবে বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দাবী তারা টাকা হাতে পায়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কর্মকর্তার চাপে তারা ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে জমা দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

উপজেলার নিকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুছ সালাম ভূইয়া বলেন, টাকা পাওয়ার বিষয়টি প্রথমে না জানলেও পরবর্তিতে চেয়ারম্যান মতিন সরকারের চাপে বিল-ভাউচারের স্বাক্ষর দিতে হয়েছে। এজন্য বিদ্যালয়ের দুইকক্ষের জন্য দরজা, জানালা পরিস্কার করে দিয়েছেন তিনি। তবে নগদ টাকা হাতে পাইনি।

চিতুলিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন জানান, বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ২লাখ টাকা গাবসারা চেয়ারম্যান কর্তৃক পেয়েছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যান পুরো টাকা না দিয়ে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে। টাকা বিদ্যালয় একাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। 

গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির বলেন, যে সকল বিদ্যালয়গুলোতে বরাদ্দ এসেছিল সেই সকল বিদ্যালয়ের সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ একটি কমিটির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকরা সর্ম্পূন করে তারাই বিল-ভাউচার জমা দিয়ে টাকা উত্তোলণ করেছেন। এখানে বিদ্যালয়ের টাকা আমার তোলার কোন সুযোগ নেই। 

নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকারের সাথে মোবাইলে বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। 

এবিষয়ে উপজেলা এলজিইডির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিক সাহার কাছে তথ্য চাইলে তিনি গড়িমশি করেন। পরে তথ্য দেয়ার আশ্বাস দিলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিরকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। বর্তমানে ওই এলজিইডি কর্মকতা অনিক সাহা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, স্থানীয় গাবসারা ও নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভিন্ন তদবির করে শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে তারা বরাদ্দ এনেছেন। তারাই সব করেছে। এছাড়া কয়েকটা বিদ্যালয়ে ঠিকমত কাজ হয়নি। তাদের কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। বাকিগুলো বিদ্যালয়ে কাজ হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

সাবেক এলজিইডি কর্মকর্তা ও বর্তমানে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিক সাহার সাথে মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উন্নয়ন কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয় গুলো হলো- উপজেলার নিকরাইল সরকারি প্রাথমিক, সার পলশিয়া সরকারি প্রাথমিক, গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক, মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক, চর কোনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক, পাটিতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক, পশ্চিম দোভায়া সরকারি প্রাথমিক, বাইনতাইন সরকারি প্রাথমিক, হাউল ভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক, দোভায়া সরকারি প্রাথমিক, পাঁচগাছি সরকারি প্রাথমিক, নলছিয়া সরকারি প্রাথমিক, পলশিয়া সরকারি প্রাথমিক, চর পাথাইলকান্দি সরকারি প্রাথমিক, রাউৎবাড়ি সরকারি প্রাথমিক, নলুয়া সরকারি প্রাথমিক, বীরামদী সরকারি প্রাথমিক, পশ্চিম ভূঞাপুর সরকারি প্রাথমিক, পুকুরিয়া শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক, ঘাটান্দি সরকারি প্রাথমিক, ইবানী শিক্ষালয় সরকারি প্রাথমিক, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সরকারি প্রাথমিক, শুশুয়া চর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অ‌বৈধ স্থাপনা উ‌চ্ছেদ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার ইউএনও'র বিরুদ্ধে করা সেই মামলাটি প্রত্যাহার করলেন বাদীর কুমুদিনী হাসপাতাল খেয়াঘাটে বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে জনদুর্ভে সংস্কারের নামে ঐতিহ্যবাহী মাঠের টাকা লুটের অভিযোগ ঘাটাইলে সরকারী ভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু বিটেকের সাবেক শিক্ষার্থীদের ইফতার মাহফিল  দেশে প্রয়োজনের বেশি ধান চাষ হচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী নদীর বেইলী ব্রিজ দেবে যান চলাচল বন্ধ ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি বিড়ি শিল্প রক্ষার্থে আঞ্চলিক সমাবেশ ও মানববন্ধন নগর নাট্যদলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল বিভিন্ন রেস্তরায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অর্থদন্ড মেয়ের লাশের ছবি দেখে সনাক্ত করলেন মা ১ হাজার ৪০ টাকা মণে ধান সংগ্রহ শুরু

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি