০৭:১৫ পিএম | টাঙ্গাইল, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া

লোকসানের শঙ্কা আর হতাশায় টাঙ্গাইলের গরু খামারিরা

বিশেষ প্রতিনিধি | টাঙ্গাইল২৪.কম | শুক্রবার, ২৫ আগস্ট ২০১৭ | | ২৭৯৯
, টাঙ্গাইল :

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের বড় উৎসব ঈদুল আযহা। এ ঈদের বড় বৈশিষ্ট্য পশু কোরবানী।

এ ঈদকে সামনে রেখে ও কোরবানী দেয়ার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে গর, মহিষ অথবা ছাগল লালন পালন করে থাকেন।

এছাড়া এ ধর্মাবলম্বিদের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠিইদেন ক্রয়কৃত পশু কোরবানী। তাই এ ঈদ আর কোরবানীকে ঘিড়ে জমে ওঠে পশু লালন পালনের প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই টাঙ্গাইলের গরু খামারিরা। করছেন পরম যতœ আর প্রাকৃতিক প্রদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ।

ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততায় সময় পার করছেন এ খামারীরা। অস্বাভাবিক বন্যা, দাম কমে যাওয়া ও গো-খাবারের দাম বৃদ্ধিসহ ভারতীর গরু প্রবেশ নিয়ে চরম হতাশা আর লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন এ ব্যবসায়িরা।

জেলায় এ বছর ১২ হাজার ৩৭৫টি বানিজ্যিক খামারসহ পারিবারিক পর্যায়ে লালন পালন হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার গরু আর প্রায় ৭৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া।

এ নিয়ে জেলা প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের দাবি চাহিদা অনুযায়ী জেলায় গড়ে উঠেছে গরু মোটা তাজা করনের খামার। অস্বাভাবিক বন্যা আর গো-খাবারের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও ভারত থেকে গরু না আসলে এ খামারীরা লাভবান হবেন বলেও দাবি তাদের। ভারত থেকে দেশে যাতে গরু না প্রবেশ করে সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাসও দিয়েছেন জেলা প্রানী সম্পদ কার্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, এ বছর জেলায় গরু মোটা তাজা করণ খামারের সংখ্যা ১২,৩৭৫টি। এর মধ্যে বানিজ্যিক খামারসহ পারিবারিক পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার গরু আর প্রায় ৭৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবছরও টাঙ্গাইল সদর, ভ‚ঞাপুর, কালিহাতি, সখিপুর উপজেলাসহ জেলার ১২টি উপজেলায় ১২ হাজার ৩শ ৭৫টি খামারে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া লালন পালন করছেন খামারীরা।

খামারিদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রদ্ধতির সবুজ ঘাস, খড়, ভ‚ষি, ভাত, খৈল আর ভিটামিন খাইয়ে লালন পালন করা হচ্ছে এসব পশু। তবে চলতি বছরের অস্বাভাবিক বন্যার ফলে গো-খাবারের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারীদের খরচ অন্যান্য বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

একদিকে গো-খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে গরুসহ এ সব পশু লালন পালনের খরচ বেড়ে গেছে। অপর দিকে দেখা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কমে গেছে গরুসহ এ সকল পশুর দাম। এছাড়াও রয়েছে ভারত থেকে গরু আসার শঙ্কা। এ নিয়ে চরম হতাশা আর লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন এ খামারিরা। ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে যাতে গরু না আসতে পারে সে ব্যাপারে সরকারের কঠোর নজরদারী কামনা করছেন এ মৌসুমি ব্যবসায়িরা। অন্যথায় খামারীরা লোকসানে পরে গরু লালন পালন করা থেকে মূখ ফিরিয়ে নিবে বলেও জানান তারা।

এ নিয়ে গোবিন্দাসী গ্রামের গরু খামারী দুলাল চকদার জানান, পাঁচ বছর যাবৎ তিনি এ গরু খামার পরিচালনা করছেন। প্রতি বছর তিনি খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে ৩০/৪০টি গরু মোটা তাজা করেন। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন রূপ ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই সবুজ ঘাস, খড়, ভ‚ষি, ভাত, খৈল আর ভিটামিন খাইয়ে এসব পশু লালন পালন করে থাকেন। তার এই খামার পরিচালনায় রয়েছে ৪জন কর্মচারি। এ ব্যবসার শুরু থেকেই তিনি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। এ বছরও তিনি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ৪০টি গরু মোটাতাজা করেছেন। প্রতিবছরই তিনি এভাবে লালন পালন করা গরু খামারসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন বলে জানান তিনি।

এ সময় তিনি আরো জানান, এ বছরের অস্বাভাবিক বন্যা আর গো-খাবারের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি খামারেই বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যয়। এ বন্যার ফলে দেশ জুড়ে কমে গেছে গরুর দাম। এ পরিস্থিতি স্বত্তেও যদি ভারত থেকে গরু প্রবেশ করে তাহলে এ ব্যবসায়িরা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এ নিয়ে খামারিরা চরম হতাশা আর শঙ্কায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যুগনী গ্রামের খামারি ফরিদ মিয়া জানান, গত বছর জেলার বিভিন্ন খামারিদের ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে তিনি এ ব্যবসায় আগ্রহী হয়েছেন। এ আগ্রহেই তিনি ১০টি গরু নিয়ে প্রথম খামারের ব্যবসা শুরু করেছেন। বর্তমানে ক্রয়কৃত গরুর মূল্য আর লালন পালনের ব্যয় নিয়ে তার প্রতিটি গরুর মূল্য দাঁড়িয়ে সর্বনি¤œ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ। চলতি বন্যা আর ভারত থেকে গরু প্রবেশ নিয়ে তিনি চরম হতাশা আর শঙ্কায় আছেন। রয়েছেন সঠিক মূল্যে গরু বিক্রি করতে পারা আর না পারার ভাবনায়।

সদর উপজেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিতাই চন্দ্র দাস জানান, ঈদ উপলক্ষে যেসব খামারিরা গরু মোটা তাজা করছেন তাদের খামার নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। মানবদেহের ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে চলছে কঠোর নজরদারি। খামারে কোন গরু অসুস্থ হলে নেয়া হচ্ছে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা এস এম আওয়াল হক জানান, অস্বাভাবিক বন্যা আর গো-খাবারের দাম এবছর কিছুটা বেশি। এ স্বত্তেও ভারত থেকে গরু না আসলে এবছরও খামারিরা লাভবান হবে। দেশে গরুর উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের বাণিজ্যিক সুবিধা সৃষ্টি, নতুন নতুন খামার গড়ে উঠার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার বিষয় গুলো কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক এ খাতকে বাচিয়ে রাখতে ও ভারত থেকে দেশে যাতে গরু না আসতে পারে সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্টি এর সাধারণ সম্পাদক খান আহমেদ শুভ বলেন, এবারের দু’দফা বন্যায় দেশের অনেক জেলা কবলিত হওয়ায় কমে গেছে গরুর বিক্রি। এ কারণে সব ধরনের গরু ব্যবসায়ীরাই আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশী গরুর খামারীরা। দেশী গরুর খামারীদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে ভারতীয় গরু আসা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে মধুপুরে সনাক’র মতবিনিময় সভা অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ ইউজিসির চেয়ারম্যান হওয়ায় অভি বঙ্গবন্ধুর শত জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী প পাউবো’র বিশাল কর্মযজ্ঞে আশান্বিত তীরবর্তী মানুষ নাগরপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল আই.ই.বি টাঙ্গাইল উপকেন্দ্রের বার্ষিক সাধারন সভা ও ইফতার বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধুর মৃত্যু মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বিরোধে সমঝোতা, ভাতা পাবেন সমান হ মাভাবিপ্রবি সি.আর.সির ঈদ বস্ত্র ও ইফতার বিতরন ফাঁসিতে ঝুলে চা বিক্রেতার আত্মহত্যা বজ্রপাতে নিহত আমজাদের পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব, দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই ঢাকা রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ এসপি সঞ্জিত কুমার রায় চলন্ত বাসে গণধর্ষণের দায়ে চালকসহ চারজনের যাবজ্জীবন দম ফেলার ফুসরৎ নেই মুড়ির কারিগরদের

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি