১২:৪১ পিএম | টাঙ্গাইল, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া

কাদের সিদ্দিকীর উপহার দেয়া দোকানে চা বিক্রি শুরু করলো চায়না

স্টাফ রিপোর্টার | টাঙ্গাইল২৪.কম | মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | |
, টাঙ্গাইল :

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরত্তোমের দেয়া দোকানে আনুষ্ঠানিক ভাবে চা বিক্রি শুরু করলো স্বামী পরিত্যক্তা চায়না বেগম (৪৫)। সোমবার (৮ জানুয়ারি ) বিকেলে ফিতা ও কেক কেটে উপহার দেয়া দোকানের উদ্বোধন করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরত্তোম ও তাঁর সহধর্মিণী নাসরিন সিদ্দিকী। 

স্বামী পরিত্যক্তা চায়না টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ (৮০) এর মেয়ে। 

জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে কালিহাতী উপজেলার মগড়া গ্রামের আনছের আলী ছেলে কদর আলী (৫০) সাথে মেয়ে চায়না বিয়ে দেন আব্দুস সামাদ (৮০)। তবে বিয়ের মাত্র দুই বছর যেতে না যেতেই গত ১৪ বছর আগে পাঁচ মাসের মেয়ে ফাতেমা আর চায়নাকে ছেড়ে যান স্বামী কদর আলী।

এরপরই শিশু মেয়েকে নিয়ে চায়না বেগমের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। একমাত্র মেয়েকে লালন পালন করার ভাবনায় চায়না বেগম প্রায় ১৩ বছর আগে গ্রামের বাড়ি থেকে চলে আসেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের পশ্চিম আকুরটাকুর পাড়ায়। সেখানে ৮০০ টাকায় ছোট একটি ঘর ভাড়া নেন। এরপর শহরের কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম-এর বাসভবন ‘সোনার বাংলা’ এবং টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ভবনের মাঝখানে শুরু করেন চায়ের দোকান। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়েই চলে চায়না বেগমের সংসার। সংসারের অভাব অনটনের কারণে ২০১৩ সালে অপ্রাপ্ত বয়সেই একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন টাঙ্গাইল পৌর শহরের সন্তোষের বালুচড়া এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে আল-আমিনের সাথে।  

এক বছর পরেই তার মেয়ের সংসারে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় কন্যা সন্তানও আসে এই সংসারে। এরপরই মেয়ের জামাই আল-আমিন বায়না ধরেন বিদেশ যাওয়ার। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আর মেয়ের জামাইয়ের বিদেশ যাওয়ার বায়নায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা করে প্রায় তিন লাখ টাকা এনে দেন চায়না। ২০১৮ সালে টাকা পেয়ে বিদেশে পারি জমান মেয়ের জামাই। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ নেই মেয়ের জামাই আল-আমিনের। 

তবে চায়না বেগম শুনেছেন তার মেয়ের জামাই আরেকটি বিয়ে করেছেন। এরপর আবার নেমে আসে তার জীবনে অন্ধকার। মেয়ে এবং নাতনিকে লালন-পালন করতে আবার শুরু হয় রাত-দিন সংগ্রাম। এরই মধ্যে কাদের সিদ্দিকী বীরত্তোমের সহধর্মিণী নাসরিন সিদ্দিকীর নজরে আসে চায়নার জীবন সংগ্রাম। নাসরিন সিদ্দিকী স্বামীকে বিষয়টি জানান এবং চায়নাকে একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। 

স্ত্রীর কথা শুনে কাদের সিদ্দিকী তার নিজ বাসভবনের নিচ তলার মার্কেটে ও নিজ খরচে টাইলস, লাইটিং, পানির লাইন এবং অন্যান্য আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে চায়না বেগমকে উপহার দেন একটি দোকান।

প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের দোকানটি উপহার পাওয়া চায়না বলেন, স্যার (কাদের সিদ্দিকী) এবং ম্যাডাম (নাসরিন সিদ্দিকী) দোকানটি আমাকে উপহার দিয়েছেন। শুধু দোকানই নয়, আমার মেয়ে ফাতেমা (১৫)কেও একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাদের জন্য আমি এবং আমার মেয়ে যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে যাবো। দেশবাসির কাছেও তাদের জন্য দোয়া চেয়েছেন চায়না।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম) বলেন, চায়না খুবই অসহায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এবং তার স্ত্রী দেখে আসছেন চায়না বেগম দিন-রাত ফুটপাতে বসে চা বিক্রি করছেন। চায়না যেন ভালভাবে চলতে পারে এজন্য তার স্ত্রীর পরামর্শে আর অনুরোধে চায়নাকে দোকানটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক গ্রেপ্তার ১৮ বছর পর স্বনামে ফিরলো আব্দুস সালাম পিন্টু কলেজ টাঙ্গাইলে আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদক সহ ২৩০ জনের নামে ম টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্রদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করলেন সাইফুল ক্ষেতের আইল দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে ভোগান্তিতে শিশু শিক্ষ যমুনা সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব পেল চায়না রোড এন্ড ব্রি বাসাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন : সভাপতি রুবেল, সম নাগরপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল বন্যার্তদের জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করল সেচ্ছাসেব গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন গোপালপুরে জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার কর্মী সম্মেলন  স্বপন ফকিরের আর্থিক সহায়তা পেল ছাত্র আন্দোলনে আহত আরও ৯ বন্যার্তদের সহায়তায় টাঙ্গাইলে চ্যারিটি কনসার্ট বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদের বিরুদ্ধে ৭ সদস্যের দূর্নীত

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি