বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ দিনপর মৃত্যুবরণ করে ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের ইমন হাসান নামে এক কলেজছাত্র। রবিবার (১৮ আগস্ট) রাত ৯ টার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নলিনের নইমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমনের জানাজা পড়ান তার ছোট ভাই হাফেজ মো. সুমন।
এরপর জানাজা শেষে তাকে তার দাদার বাড়ির পাশে একটি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একইদিন ভোর ৫ টার দিকে ঢাকা মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘নিহত ইমন ভূঞাপুর উপজেলা অজুর্না ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক ছিল। সে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে। তার পরিবারের দায়িত্ব দল (বিএনপি) নিবে। ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইমনের পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন।’
এসময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. কায়সারুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম সবুর, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন, ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলুসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা-উপজেলার সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুত্বর আহত হয়। পরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে গত ৬ আগস্ট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ আগস্ট ভোর ৫ টায় মৃত্যুবরণ করে।
ইমন নলিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ভূঞাপুরের অলোয়া মনিরুজ্জামান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাশ করে গোপালপুরের হেমনগর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। পরে নিজের পড়াশোনার খরচ ও সংসারের হাল ধরতে টাঙ্গাইলের এক চাচার বাসায় থেকে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে টিউশনি করাতেন। তিনি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি
আপনার মন্তব্য লিখুন...