০৬:০৩ পিএম | টাঙ্গাইল, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া

মুরগির বর্জ্যে বংশাই নদীতে মরে ভেসে উঠছে মাছ

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল | টাঙ্গাইল২৪.কম | শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | |
, টাঙ্গাইল :

নদীর নাম বংশাই। ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী এটি। এ নদীর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল ধলাপাড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া অংশে দুই ধারে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক লেয়ার মুরগীর খামার। এসব খামারের বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে অতি মাত্রায় পানি দূষিত হওয়ায় মরে ভেসে উঠছে মাছ। পানির সংস্পর্শে মানুষের শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের চর্ম রোগ।  

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই ধারে গড়ে ওঠা লেয়ারের বর্জ্য কোন স্থানে ড্রেন আবার কোন স্থানে পাইপ দ্বারা সরাসরি নদীর পানির সাথে সংযোগ দেয়া হয়েছে। পানিতে ভাসছে মুরগীর পালক। নদীতে নেই তেমন ¯্রােত। পানির রং এতটাই কালো রূপ ধারণ করেছে যে মানুষ তো দূরে থাক গবাদি পশুও নাকি গোসল করানো হয় না। 

সারা বছরই কম বেশি মাছ পাওয়া যেত এ নদীতে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার মাছের বেশ কদর ছিল। আর এ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত ধলাপাড়া বড় মেধার গ্রামের প্রায় ২০-২৫ ঘর জেলে পরিবার। নদীর দূষিত পানি দিয়ে বোরো ধানের সেচ কাজ চালাচ্ছে কৃষক। এতে করে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ নদীর পানির সাথে বর্জ্য মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাসা-বাড়িতে থাকা কষ্ট হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় ক্ষতিসহ তাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে। 

বড় মেধার গ্রামের জেলে চেতন চন্দ্র দাস বলেন, আগে নদীতে মেলা বড় বড় মাছ আছিলো এহন আর নাই। বড় মাছ ত নাই-ই একটা ইচা মাছও (চিংড়ি) পাওয়া যায় না। 

জেলে সাধন দাস জানান, লেয়ার মুরগির বর্জ্য এতো বেশি পরিমানে ফেলা হচ্ছে যে, যা দু’একটা মাছ আছে তাও মরে ভেসে উঠছে। 

কলেজ ছাত্র বিদ্যুৎ বলেন, আগে নদীতে নেমে গোসল করতাম আর এখন গোসল করলে ঘাঁ, চুলকানি হয়।

স্কুল শিক্ষক অনন্ত জানান, বাড়ির কাছেই নদী, অথচ আমার দুই সন্তানের একজনও সাঁতার শিখেনি। নদীতে নামলেই শরীর চুলকায়, ঘাঁ হয়। এক সময় এ নদীর পানি দিয়ে ভাত রান্না করে খাওয়া যেত। এখন গোসলও করা যায় না। 

ধলাপাড়া গ্রামের খামারি গিয়াস উদ্দিন বলেন, বর্জ্য নদীতে ফেলতেছি। আমার গ্যাস প্লান্ট আছে আর ফেলব না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ^াস বলেন, সরাসরি লেয়ারের বর্জ্য পানিতে ফেললে সেই দূষিত পানি দ্বারা সেচ কাজ চালালে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, শুধু মাছ নয়, লেয়ারের বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে জীববৈচিত্রের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। মাছ প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন প্রাকৃতিক মাছ হারিয়ে যাবে। 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. আব্দুল মান্নান বলেন, খামার গুলোর আইনগতভাবে কোন বৈধতা নেই। তাদের প্রাণি সম্পদ অফিসে কোন রেজি: নেই।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি খামার স্থাপনের কারনে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয়, তবে সরেজমিনে তদন্ত করে খামার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

ফারুক হত্যা মামলায় পরবর্তী স্বাক্ষ্য গ্রহণ ২৯ আগস্ট বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ মির্জাপুর থানার নতুন অফিসার্স ইনচার্জ সাইদুর রহমান বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা এমপি প্রীতি ফুটবল টূর্ণামেন্টে নাগরপুর জয়ী বন্যার পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে নাগরপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু র‌্যালি আলোচনা সভায় মৎস্য সপ্তাহ শুরু  দৈনিক যায়যায়দিন’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক এ্যাপোচ ভেঙ্গে হুমকির মুখে বড় বাসালিয়া সেতু পানিবন্দি দের দারে  ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বা উপজেলা পরিষদ ভবনের সাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ঝুঁকি নিয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন দূর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী-এমপি ট

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি