০৪:০১ এএম | টাঙ্গাইল, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া

রহস্য উদ্ঘাটন

স্ত্রীর পরকীয়ার বলি শামীম মেলেটারী

স্টাফ রিপোর্টার | টাঙ্গাইল২৪.কম | বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৯ | |
, টাঙ্গাইল :

শ্বাসরোধে হত্যা করে হাত-পা বেধে সুন্দর ব্রিজের উপর থেকে স্থানীয় বৈরাণ নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয় বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উত্তর বিলডগা গ্রামের চাঞ্চল্যকর শামীম মেলেটারী ওরফে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শামীম হত্যা মামলার মূল আসামী।

মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ হত্যাকান্ডের পূর্বাপর বর্ণনা করেন তিনি। এ মামলার মূল আসামি গোপালপুরের আভঙ্গী গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শামীম মেলেটারী ও তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অবসরে আসার পর শামীম পেনশনের পুরো টাকা জুয়া খেলে হেরে যায় এবং ঘটনাটি গোপণ রাখে। পরে শামীম নানা জনের কাছ থেকে প্রচুর ধার-কর্জ করে। পাওনাদারদের চাপে শামীম ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করে। শামীমের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগমের (৩০) সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মাঝে একই উপজেলার বাইশকাইল (গইজারপাড়া) গ্রামের মো. হোসেন আলীর ছেলে সুজনের সাথেও রাজিয়া বেগমের দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে মোছা. রাজিয়া বেগমের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট রাতে ঢাকা থেকে মো. শামীমকে (৩৯) ডেকে আনা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে সদর রাস্তা দিয়ে বাড়ি যেতে না দিয়ে নদীর পাড় দিয়ে বাড়িতে নেয়ার পথে সুন্দর ব্রিজের সামান্য দূরে মুখে ওষুধমাখা রুমাল চাপা দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। পরে আগে থেকে কিনে আনা রশি দিয়ে হাত-পা বেধে সুন্দর ব্রিজের উপর থেকে নিচে বৈরাণ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

ওই বছরের ২৪ আগস্ট স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা করেন শামীমের স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগম। আর বাস্তবায়নেও অংশ নেন রাজিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুজন ও আ. রহিম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) এস আই মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোপালপুরের সাবেক সেনা সদস্য মো. শামীম হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে তার স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগম গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এস আই হাফিজুর রহমান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল মো. শামসুজ্জামানের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে প্রথমে বাইশকাইল (গইজারপাড়া) গ্রামের মো. হোসেন আলীর ছেলে সুজন (২৮) ও আ. রাজ্জাকের ছেলে আ. রহিমকে (৩০) গ্রেফতার করেন।

পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিহত শামীমের স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগমকে গ্রেফতার করে এবং এসআই হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে স্ত্রী সহ ৪জনের নামোল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আরো ২-৩জনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে হত্যাকান্ডের মূল আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে কৌশলে গ্রেফতার করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত মো. রফিকুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট গোপালপুর উপজেলার সুন্দর ব্রিজের সন্নিকটে বৈরাণ নদীতে কচুরিপানার নিচ থেকে উত্তর বিলডগা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. শামীমের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

ফারুক হত্যা মামলায় পরবর্তী স্বাক্ষ্য গ্রহণ ২৯ আগস্ট বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ মির্জাপুর থানার নতুন অফিসার্স ইনচার্জ সাইদুর রহমান বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা এমপি প্রীতি ফুটবল টূর্ণামেন্টে নাগরপুর জয়ী বন্যার পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে নাগরপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু র‌্যালি আলোচনা সভায় মৎস্য সপ্তাহ শুরু  দৈনিক যায়যায়দিন’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক এ্যাপোচ ভেঙ্গে হুমকির মুখে বড় বাসালিয়া সেতু পানিবন্দি দের দারে  ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বা উপজেলা পরিষদ ভবনের সাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ঝুঁকি নিয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন দূর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী-এমপি ট

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি