০৫:৪১ পিএম | টাঙ্গাইল, রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া

রহস্য উদ্ঘাটন

স্ত্রীর পরকীয়ার বলি শামীম মেলেটারী

স্টাফ রিপোর্টার | টাঙ্গাইল২৪.কম | বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৯ | |
, টাঙ্গাইল :

শ্বাসরোধে হত্যা করে হাত-পা বেধে সুন্দর ব্রিজের উপর থেকে স্থানীয় বৈরাণ নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হয় বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উত্তর বিলডগা গ্রামের চাঞ্চল্যকর শামীম মেলেটারী ওরফে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শামীম হত্যা মামলার মূল আসামী।

মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ হত্যাকান্ডের পূর্বাপর বর্ণনা করেন তিনি। এ মামলার মূল আসামি গোপালপুরের আভঙ্গী গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শামীম মেলেটারী ও তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অবসরে আসার পর শামীম পেনশনের পুরো টাকা জুয়া খেলে হেরে যায় এবং ঘটনাটি গোপণ রাখে। পরে শামীম নানা জনের কাছ থেকে প্রচুর ধার-কর্জ করে। পাওনাদারদের চাপে শামীম ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করে। শামীমের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগমের (৩০) সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মাঝে একই উপজেলার বাইশকাইল (গইজারপাড়া) গ্রামের মো. হোসেন আলীর ছেলে সুজনের সাথেও রাজিয়া বেগমের দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে মোছা. রাজিয়া বেগমের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট রাতে ঢাকা থেকে মো. শামীমকে (৩৯) ডেকে আনা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে সদর রাস্তা দিয়ে বাড়ি যেতে না দিয়ে নদীর পাড় দিয়ে বাড়িতে নেয়ার পথে সুন্দর ব্রিজের সামান্য দূরে মুখে ওষুধমাখা রুমাল চাপা দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। পরে আগে থেকে কিনে আনা রশি দিয়ে হাত-পা বেধে সুন্দর ব্রিজের উপর থেকে নিচে বৈরাণ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

ওই বছরের ২৪ আগস্ট স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা করেন শামীমের স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগম। আর বাস্তবায়নেও অংশ নেন রাজিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুজন ও আ. রহিম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) এস আই মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোপালপুরের সাবেক সেনা সদস্য মো. শামীম হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে তার স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগম গোপালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এস আই হাফিজুর রহমান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল মো. শামসুজ্জামানের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে প্রথমে বাইশকাইল (গইজারপাড়া) গ্রামের মো. হোসেন আলীর ছেলে সুজন (২৮) ও আ. রাজ্জাকের ছেলে আ. রহিমকে (৩০) গ্রেফতার করেন।

পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিহত শামীমের স্ত্রী মোছা. রাজিয়া বেগমকে গ্রেফতার করে এবং এসআই হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে স্ত্রী সহ ৪জনের নামোল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আরো ২-৩জনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে হত্যাকান্ডের মূল আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে কৌশলে গ্রেফতার করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত মো. রফিকুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট গোপালপুর উপজেলার সুন্দর ব্রিজের সন্নিকটে বৈরাণ নদীতে কচুরিপানার নিচ থেকে উত্তর বিলডগা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. শামীমের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

গোপালপুরে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত মহাসড়কের কালভার্ট মাটি দিয়ে ভরাট মির্জাপুরে নানা আয়োজনে বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত ‘‘সকলের জন্য সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিতের দাবিতে মান বিদেশী শাড়ীর দৌরাত্ম্যে ভালো নেই টাঙ্গাইলের তাঁতীরা বিশ্ব যক্ষা দিবস পালন সড়ক দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত আ’লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভার প্যান্ডেল পুড়িয়ে দিয়েছ নেতাকর্মী-সমর্থক না থাকায় নৌকার সভা স্থগিত সখীপুর প্রেসক্লাব’র নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন কারাবন্দিদের বৈদ্যুতিক পাখা দিল লায়ন্স ক্লাব স্টাইলে চুল কাটার উপর নিষেধাজ্ঞার নোটিশ প্রত্যাহার নির্বাচন বাতিল চেয়ে  নৃ-গোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের মানববন্ ট্রেনে কাটা পড়ে নারী নিহত  একই স্থানে ২ পক্ষের সভা, ১৪৪ ধারা জারি

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি