০৩:৫৮ এএম | টাঙ্গাইল, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া

হুন্ডি ব্যবসা, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ গ্যাস বিক্রি

দিনমুজুর থেকে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক

জাহাঙ্গীর হোসেন | টাঙ্গাইল২৪.কম | মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | | ৬৬৩৮
, টাঙ্গাইল :

হুন্ডি ব্যবসা, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহের মাধ্যমে দিনমুজুর থেকে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এক সময়ের মির্জাপুর বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া।

অবৈধ পথে অর্জিত ওই টাকা দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গড়ে তুলেছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন। ক্রয় ও প্রতারনার মাধ্যমে মালিক হয়েছেন কোটি কোটি টাকা মূল্যের ১০ থেকে ১২ একক জমির। সেই জমিতে নির্মাণ করেছেন একাধিক মার্কেট, বাড়ি। দাপিয়ে বেড়ান বিলাস বহুল গাড়ীতে।

সম্প্রতি ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যে মির্জাপুরে বাজারে ৬ শতাংশ জমির উপর দোকানঘরসহ আরও একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন তিনি। হুন্ডি ব্যবসা, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর ও মির্জাপুর থানায় ইব্রাহিম মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। এরপরও ইব্রাহিম মিয়া নির্বিঘেœ তার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের মৃত আবেদ আলী মিঞার ছেলে ইব্রাহিম মিয়া স্বাধীনতার পর নিজ গ্রামের একাধিক বাড়িতে রাখাল (গৃহস্থ বাড়িতে এক বছরের জন্য চুক্তিতে কাজ করা) থাকতেন। আশির দশকের শেষের দিকে উপজেলার বিভিন্ন ছোট ছোট বাজার থেকে কাঁচামাল (সবজি) ক্রয় করে তা উপজেলা সদরের বাজারের বিক্রি করতেন।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি মির্জাপুর বাজারের ঠান্ডু মার্কেটে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামে ফোন ফ্যাক্সের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। মূলত ফোন ফ্যাক্সের ব্যবসার আড়ালে শুরু করেন হুন্ডি ব্যবসা।

সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আপনজনের কাছে পৌছে দিতেন। আর এই অবৈধ হুন্ডির টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে অবৈধ পথে গ্লোডসহ অবৈধ মালামাল নিয়ে আসতেন। ওই সময়ে কয়েক দফায় তার মোটা অংকের স্বর্নের চালানও এয়ারপোর্টে আটকা পড়ে বলে জানা গেছে।

ফোন ফ্যাক্স ও হুন্ডি ব্যবসার পাশাপাশি নব্বই দশকের শেষে দিকে শুরু করেন ধান, গম, আতব চাউল ও ভূট্টার ব্যবসা। চট্রগ্রাম থেকে হিলি দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ক্রয় বিক্রয় ও সরবরাহ করতেন। এই খাদ্য বহনকারী যানবাহনে বিভিন্ন প্রকার মাদক চোরাচালানও করতেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এ সকল অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর ও মির্জাপুরে তার নামে একাধিক মামলা হয় বলে জানা গেছে।

স্ব শিক্ষিত ইব্রাহিম মিয়া অবৈধ পথে অর্জিত টাকা দিয়ে গড়ে তোলেছেন সম্পদের পাহাড়। ২০০৪ সালের দিকে মির্জাপুর বাইপাসের গড়ে তোলেন মা সিএনজি ফিলিং স্টেশন। স্টেশনটিতে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর থেকে মিটার কারসাজি (টেম্পারিং) মাধ্যমে গ্যাস চুরি, অবৈধভাবে রাতের আধারে গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ, অনিয়মিত বিল পরিশোধসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ইতিমধ্যে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ, মিটার কারসাজি (টেম্পারিং ) অভিযোগে কয়েক দফা জরিমানা প্রদান করাসহ মামলাও হয়েছে তার নামে। কিন্ত তারপরও অবৈধ কারসাজির মাধ্যমে রাতের আধারে গ্যাস বিক্রি ও সরবরাহ করে যাচ্ছেন তিনি।

বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা মো. কদম মিয়া বলেন, ইব্রাহিম ও আমি একসাথে গ্রামের পঞ্চায়েদ বাড়িতে রাখাল খেটেছি। পরবর্তীতে সেও ব্যবসা শুরু করে আমিও ব্যবসা করছি। কিন্ত তার মতো রাতরাতি উন্নতি করতে তো পারলাম না।

একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফারেজ আলীর মেয়ে বছিরন নেছা অভিযোগ করে বলেন, প্রতারনার মাধ্যমে তার পিতার নামে থাকা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ৩৭ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক ইব্রাহিম মিয়া। জমি দাবি করলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী মামলা দিয়ে হয়রানী করে থাকে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মির্জাপুর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আশির দশকের শুরুর দিকে ইব্রাহিম মিয়া মির্জাপুর বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতো। এরপর ফোন ফ্যাক্সের ও ধান চাউলের ব্যবসা। পরবর্তীতে সিএনজি পাম্প করেছেন। তার উন্নতিটা অনেকটা রাতারাতি হয়েছে বলে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।এ ব্যাপারে মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চট্রগ্রামে তার নামে মামলার কথা স্বীকার করে বলেন, মির্জাপুরে কোন মামলা নেই। চট্রগ্রামে থাকা মামলা শেষ হয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।

চট্রগ্রামে কিসের মামলা ছিল তা জানাতে রাজি হননি তিনি। ফোন ফ্যাক্সের ব্যবসার আড়ালে অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা করার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) তুহিন খানের সঙ্গে কথা হলে ইব্রাহিম মিয়ার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় অবৈধভাবে গ্যাস চুরি ও সরবরাহের অভিযোগে মামলা থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, একই অভিযোগে প্রশাসন তার কাছ থেকে একাধিকবার জরিমানাও আদায় করেছেন। হুন্ডি ব্যবসার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

ফারুক হত্যা মামলায় পরবর্তী স্বাক্ষ্য গ্রহণ ২৯ আগস্ট বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ মির্জাপুর থানার নতুন অফিসার্স ইনচার্জ সাইদুর রহমান বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা এমপি প্রীতি ফুটবল টূর্ণামেন্টে নাগরপুর জয়ী বন্যার পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে নাগরপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু র‌্যালি আলোচনা সভায় মৎস্য সপ্তাহ শুরু  দৈনিক যায়যায়দিন’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক এ্যাপোচ ভেঙ্গে হুমকির মুখে বড় বাসালিয়া সেতু পানিবন্দি দের দারে  ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বা উপজেলা পরিষদ ভবনের সাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ঝুঁকি নিয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন দূর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী-এমপি ট

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

নির্মান ও ডিজাইন : মঈনুল ইসলাম, পাওয়ার বাই: জিরোওয়ানবিডি